নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: মুহূর্তের অসতর্কতা, আর তাতেই শেষ হয়ে গেল এক সম্ভাবনাময় জীবনের পথচলা। লড়াইটা চলছিল গত কয়েকদিন ধরেই। কখনও মনে হচ্ছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সে হয়তো ফিরে আসবে চেনা জিমে, আবার হাতে তুলে নেবে ভারী ওজন। কিন্তু ঘাতক বিদ্যুৎ হার মানাল সব লড়াইকে। সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হল ১৫ বছরের পাওয়ারলিফটার অভিমন্যু চ্যাটার্জীর। ক্রীড়ামহলে সে পরিচিত ছিল ‘কৃষ্ণ’ নামে।
দুর্গাপুরের পাওয়ারলিফটিং পরিবারে কৃষ্ণ ছিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নিজের কঠোর পরিশ্রম আর প্রতিভা দিয়ে সে বুঝিয়ে দিয়েছিল, আগামীর মঞ্চ তার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সব ওলটপালট হয়ে যায়। ২৫,০০০ ভোল্টের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হয়েছিল সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কয়েক দিন ধরে ভেন্টিলেশনে যমে-মানুষে টানাটানি চলার পর অবশেষে সোমবার দুপুরে স্তব্ধ হয়ে যায় তার হৃৎস্পন্দন।
কান্নায় ভেঙে পড়ল খেলার মাঠ
মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে যখন অভিমন্যুর দেহ আনা হয়, সেখানে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রিয় সতীর্থকে শেষ বিদায় জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য খেলোয়াড়, কোচ এবং শুভানুধ্যায়ীরা। লড়াকু এই কিশোরের অকালপ্রয়াণ যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এক সতীর্থের কথায়, “ও শুধু ভালো প্লেয়ার ছিল না, ছিল আমাদের সবার অনুপ্রেরণা। এত হাসিখুশি একটা ছেলে এভাবে চলে যাবে ভাবতেও পারছি না।”
শোকের ছায়া শিল্পাঞ্চলে
অভিমন্যুর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা শিল্পাঞ্চলে। স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলি গভীর শোক প্রকাশ করেছে। অভিমন্যু চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা আগামী দিনে শহরের তরুণ ক্রীড়াবিদদের পাথেয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
“স্বপ্ন দেখার আর লড়াই করার নামই যে জীবন, তা খুব অল্প বয়সেই শিখিয়ে দিয়ে গেল কৃষ্ণ।” — এক শোকার্ত ক্রীড়াপ্রেমী।
বিকেল গড়াতেই নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে শহরকে। একটি সম্ভাবনাময় কেরিয়ারের এমন অকাল সমাপ্তি দুর্গাপুরের ক্রীড়াজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েই থেকে গেল।