নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দোরগোড়ায় নির্বাচন। আর তার আগেই বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শিল্পশহর দুর্গাপুর। সোমবার রাতে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নেপালী পাড়া এলাকায় তৃণমূলের দলীয় পতাকা পোড়ানো এবং প্রার্থীর ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনার জেরে রাতভর টানটান উত্তেজনা এলাকায়। শুধু রাজনৈতিক সংঘাত নয়, আগুনের লেলিহান শিখা যেভাবে বসতবাড়ির জলের পাইপ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, তাতে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা নেপালী পাড়ার একটি বাড়িতে লাগানো তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। নিমেষের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির প্লাস্টিকের জলের পাইপ গলে যেতে শুরু করে। আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গৃহস্থরা। তড়িঘড়ি জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এই রূপ দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত এলাকাবাসী। পাশাপাশি, শাসকদলের প্রার্থীর সমর্থনে লাগানো একাধিক ফ্লেক্স ব্লেড দিয়ে কুচিকুচি করে কেটে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার খবর চাউর হতেই মেজাজ হারায় ঘাসফুল শিবির। তিন নম্বর ব্লক তৃণমূল কিষান সেলের সভাপতি শেখ আজগর আলী সরাসরি আঙুল তুলেছেন পদ্ম শিবিরের দিকে। তাঁর দাবি, “দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি এখন অন্ধকারকে হাতিয়ার করছে। ভয় দেখিয়ে তৃণমূলকে রোখা যাবে না।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরও। অভিযোগ নস্যাৎ করে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, “সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পেতেই তৃণমূল এই ধরণের নাটক সাজাচ্ছে। হার নিশ্চিত বুঝে ওরা নিজেরাই নিজেদের ফ্লেক্স ছিঁড়ে বিজেপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত দুর্গাপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই শিল্পাঞ্চলের নানা প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর আসছিল, কিন্তু এদিনের ঘটনা যেন বারুদে শেষ সলতে টুকু দিয়ে দিল। পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট যত এগিয়ে আসবে, দুর্গাপুরের অলিগলিতে এই রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এদিনের ঘটনাতেই। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে, তবে চাপা আতঙ্ক এখনও কাটেনি নেপালী পাড়ার বাসিন্দাদের চোখেমুখ থেকে।