নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শান্ত দুর্গাপুরে ভোটের উত্তাপ ছিলই, এবার তাতে ঘি ঢালল মনোনয়ন পর্বের বিশৃঙ্খলা। নির্বাচন কমিশনের কড়া বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে তুলকালাম বাধানোর অভিযোগ উঠল বিজেপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রীতিমতো ব্যারিকেড ভেঙে, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে মিছিল করে দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিয়ম ভাঙার ‘শোভাযাত্রা’
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন কেন্দ্র বা সরকারি দপ্তরের নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে কোনও জমায়েত, শোভাযাত্রা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ। কিন্তু অভিযোগ, এদিন চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে নিয়মের কোনও তোয়াক্কাই করা হয়নি। মিছিলে শুধু কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নয়, ছিল ব্যান্ড পার্টিও। এমনকি মা কালী সেজেও বেশ কয়েকজনকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।মহকুমা শাসক দপ্তরের সামনে পুলিশি নিরাপত্তা বলয় থাকলেও, উত্তেজিত কর্মীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ। জানা গেছে, প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রায় এক ঘণ্টা পর এই বিশাল মিছিল দপ্তরের সামনে পৌঁছয়, যা নিয়ে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে কমিশনের কড়া নজরদারি থাকার কথা, সেখানে পুলিশের সামনে কীভাবে ব্যারিকেড ভাঙা হল?”নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দলের জন্যই সমান নিয়ম করেছে। কিন্তু গেরুয়া শিবির যেভাবে শক্তি প্রদর্শনের নামে প্রশাসনিক গণ্ডি লঙ্ঘন করল, তা নজিরবিহীন,” মন্তব্য এক স্থানীয় বাসিন্দার।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির এই ‘বেপরোয়া’ আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ। তাদের দাবি, পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝেই ধর্মীয় অনুষঙ্গ এবং গোলমাল পাকিয়ে নজর কাড়তে চাইছে বিজেপি। যদিও গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগেই এই ভিড় হয়েছিল।
বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও থমথমে ভাব কাটেনি শিল্পশহরে। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় কোনও কড়া পদক্ষেপ করে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।