নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভরদুপুরে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে যুযুধান দুই পক্ষ। এক দিকে শাসকদলের ‘জয় বাংলা’, তো অন্য দিকে গেরুয়া শিবিরের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। দুই পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ নামলেও উত্তেজনার পারদ নামল না সহজে। উল্টে খোদ পুলিশ আধিকারিককে নিগ্রহের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শিল্পাঞ্চল।
বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে আসছিলেন। ঠিক তার আগেই মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরোচ্ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার, পশ্চিমের প্রার্থী কবি দত্ত এবং রানিগঞ্জের কালোবরণ মণ্ডল। মহকুমা শাসকের দপ্তরের সদর দরজায় দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের উপক্রম হয়।
তৃণমূল কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করতেই মেজাজ হারান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে ফেটে পড়ে চত্বর। বচসা থেকে ধাক্কাধাক্কি— পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই আসরে নামে দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু অভিযোগ, ভিড় সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় পুলিশকেই। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক সঞ্জীব দে-কে এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর রীতিমতো হুঙ্কার ছাড়েন বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “এখানকার পুলিশ আজ অসভ্য পুলিশের পরিচয় দিচ্ছে। উর্দি ছেড়ে ওদের তৃণমূলের পাজামা-পাঞ্জাবি পরা উচিত। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাচ্ছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমার নামও চন্দ্রশেখর নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “১০ মিনিট সময় দিচ্ছি প্রশাসনকে, আমার হাতে যা শক্তি আছে তাতে এই জয় বাংলা বলা ভূতদের তাড়াতে ১০ মিনিটও লাগবে না।”
পাল্টা তৃণমূল শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রার্থীর পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই তিনি গায়ের জোরে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। তবে এই ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ দুর্গাপুর সিটি সেন্টার এলাকায় চাঞ্চল্য বজায় ছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।