নিজস্ব সংবাদদাতা,বর্ধমান: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘তোষণ রাজনীতি’র অভিযোগকে ফের হাতিয়ার করল বিজেপি। বুধবার ১ এপ্রিল ২০২৬, কলকাতায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে প্রকাশিত একটি ‘চার্জশিট’-এ নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক শাসনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রকাশিত ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সম্পদ বণ্টন থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগ— সব ক্ষেত্রেই এক বিশেষ ‘ভোটব্যাঙ্ক’কে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
বাজেটে ‘বৈষম্য’ ও ওবিসি বিতর্ক
বিজেপির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওবিসি তালিকা এবং বাজেট বরাদ্দ। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭৭টি নতুন সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৭৫টিই ছিল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের। যদিও পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্ট এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়।
পাশাপাশি, সরকারের আর্থিক নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের বাজেট ২০১১ সাল থেকে লাফিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে যা ৪৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫,৫৩০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সংখ্যালঘু ভিত্তিক প্রকল্পগুলিতে যেখানে ৫,৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেখানে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য বরাদ্দ মাত্র ২,৫৩৩ কোটি টাকা।
প্রশাসন ও সীমান্ত ইস্যু
তৃণমূল জমানায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং এনপিআর-সিএএ বিরোধিতার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বিজেপির এই ‘চার্জশিটে’। তাদের অভিযোগ, অনুপ্রবেশ ও ওয়াকফ সম্পত্তির যাচাইয়ে চরম অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। মুর্শিদাবাদ, ভাঙড়, রিষড়া ও মোমিনপুরের গোলমালের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করা হয়েছে, এই সব ক্ষেত্রে পুলিশি পদক্ষেপ ছিল ‘নির্বাচিত’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। এমনকি শান্তি ফেরাতে আদালতকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে হয়েছে বলেও চার্জশিটে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জেলা সভাপতির তোপ
এই কেন্দ্রীয় চার্জশিটের সুর টেনেই বিজেপি জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তোষণ রাজনীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। প্রশাসন কোনও নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কের জন্য চলতে পারে না। সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার থাকা উচিত। বাংলার মানুষ প্রতিদিন এই বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতিকে উসকে দিয়ে এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের তত্ত্ব সামনে এনে শাসকদলকে চাপে রাখাই এখন বিজেপির মূল কৌশল। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, এগুলি বিজেপির সাজানো অভিযোগ এবং বিভাজনের রাজনীতি করার অপচেষ্টা মাত্র।