নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ঘড়ির কাঁটা তখনো সকালের রোদকে খুব একটা তেজালো করতে পারেনি। হাতে মাত্র কয়েক দিন, তাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে তখন ভোটযুদ্ধের শেষ ল্যাপে দৌড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আমরাই গ্রামে ঢুকতেই বদলে গেল চেনা নির্বাচনী মেজাজ। স্লোগান আর করমর্দনের মাঝেই ভেসে এল সুর— ‘হ্যাপি বার্থডে বাপ্পা দা’।
ভোটের প্রচারের কড়া রুটিনের মধ্যেই মঙ্গলবার ৬১ বছরে পা দিলেন দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কবি দত্ত। তবে জন্মদিনের উৎসব পালন করতে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহ নয়, তিনি বেছে নিলেন ভোটারদের আঙিনা আর কর্মী-সমর্থকদের ভিড়কেই।
প্রচারের মাঝেই কেক-কাটা
মঙ্গলবার সকালে আমরাই গ্রামে দলীয় পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রচার শুরু হতেই দেখা যায় অন্য ছবি। প্রার্থীর জন্য আগেভাগেই কেক নিয়ে হাজির হয়েছিলেন উৎসাহী কর্মী-সমর্থকেরা। প্রিয় ‘বাপ্পা দা’-কে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তাঁরা। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়নি সামনে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উর্ধ্বে গিয়ে কর্মী ও সাধারণ মানুষের এই আবেগ দেখে আপ্লুত দেখাল প্রার্থীকেও। হাসিমুখে সবার আবদার মিটিয়ে কেক কাটেন তিনি।
জনসম্পর্কই প্রধান পাথেয়
ভোটের বাজারে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দুর্গাপুর পশ্চিমের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন কবিবাবু। তাঁর কথায়, “মানুষের এই ভালোবাসাই আমার কাজ করার শক্তি। আজ জন্মদিনে আলাদা করে কোনো আয়োজন নয়, মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে পারাই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ উপহার।”
উন্নয়নের লক্ষ্যে অবিচল
জন্মদিনের কেক কাটলেও লক্ষ্য যে স্থির, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রার্থী। তিনি জানান, দুর্গাপুরের মানুষের এই আস্থা ও আশীর্বাদকে সঙ্গী করেই আগামী দিনে উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে চান তিনি। পদযাত্রা শেষে আবার ফিরে যান চিরপরিচিত মেজাজে— জোড়হাতে মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে পরের গন্তব্যের দিকে রওনা দিলেন ‘বার্থডে বয়’ কবি দত্ত।ভোটের উত্তাপের মাঝে রবিবারের এই এক টুকরো আনন্দ কর্মী-সমর্থকদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।