সীমান্তে গরু-মাদক পাচার রুখতে কড়া নজর, লালবাগে পুজোর উদ্বোধনে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা শুভেন্দুর

Uncategorized
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালবাগ: বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদে মাদক ও গরু পাচার কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই জেলার সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, ঘোষিত প্রকল্পগুলির কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করতে হবে।
উৎসবের আবহে এ দিন মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের সার্বিক হালহকিকত নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। খোঁজ নেন এলাকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার। বিধানসভা এলাকায় কোনও আইটিআই কলেজ নেই জানতে পেরে তিনি জেলাশাসককে অবিলম্বে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, জমি পেলেই দ্রুত কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, যাতে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হয়। এর পাশাপাশি বর্তমান সাধারণ কলেজে সকালের শিফটে পঠনপাঠন শুরু করা এবং স্বতন্ত্র একটি গার্লস কলেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর আশ্বাস, অতিরিক্ত শিফট চালুর ক্ষেত্রে অধ্যাপকের ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানান শুভেন্দু। তিনি ঘোষণা করেন, স্থানীয় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দ্রুত চালু করা হবে প্রধানমন্ত্রীর জনঔষধি কেন্দ্র। সেখান থেকে সুলভ মূল্যে জরুরি ওষুধপত্র পাবেন এলাকাবাসী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়নে কোনও আর্থিক টানাপড়েন বাধা হবে না। তবে কাজ শেষ করতে হবে ডিসেম্বরের মধ্যেই।’’ মুর্শিদাবাদের পর্যটন পরিকাঠামো মজবুত করতে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উন্নয়নের খতিয়ানের পাশাপাশি এ দিন শুভেন্দুর ভাষণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা। বাংলাদেশ লাগোয়া এই জেলায় পাচার ও অনুপ্রবেশ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা দীর্ঘ দিনের। সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এলাকায় এখন গরু ও মাদক পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সীমান্তে বিএসএফ এবং জেলা পুলিশ যৌথ ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ জোরকদমে চলছে। কোনও ধরনের বেআইনি অনুপ্রবেশ বা পাচার বরদাস্ত করা হবে না। জেলাকে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।’’ তবে পাচার নিয়ন্ত্রণে আসার এই দাবি নিয়ে বিরোধীদের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এ দিনের মঞ্চ থেকে সামাজিক কুপ্রথা রোধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত সাধারণ মানুষের কাছে নাবালিকা বিবাহ অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, নির্দিষ্ট বয়সের আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সব মিলিয়ে, উৎসবের আবহে সীমান্ত বার্তা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির মেলবন্ধনে মুর্শিদাবাদে উন্নয়নের সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার, ডিসেম্বরের সময়সীমার মধ্যে ঘোষিত এই প্রকল্পগুলির সুফল কতটা দ্রুত পৌঁছয় আমজনতার দরবারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *