নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ভোটের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক তরজার পারদ। এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো বিজেপি। সোমবার শিশির বাজোরিয়ার নেতৃত্বে গেরুয়া শিবিরের এক প্রতিনিধি দল দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে এই মর্মে নালিশ ঠুকেছেন। পদ্ম শিবিরের দাবি, পূর্ব বর্ধমানের রায়নার সভা থেকে অভিষেক যা বলেছেন, তা আদতে আদর্শ আচরণবিধির (মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট) চরম লঙ্ঘন।
বিবাদের মূলে রয়েছে রায়নার একটি নির্বাচনী সভা। অভিযোগ, ওই সভা থেকে তৃণমূল সাংসদ বিরোধীদের হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং ‘বলো হরি হরি বোল’ বলে বিদায় করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপির অভিযোগ, এই ধরনের ভাষা কেবল কুরুচিকরই নয়, বরং তা ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নিদান অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কমিশনকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করিয়ে দিয়েছেন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা। তাঁদের দাবি, সেই সময় বহু কর্মী আক্রান্ত হয়েছিলেন, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। এমতাবস্থায় ‘হাত-পা ভেঙে দেওয়ার’ ডাক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় উদ্বেগের কারণ। উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নালিশ জানিয়েছিল বিজেপি।
কমিশনের কাছে বিজেপির আর্জি, অভিষেকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অবিলম্বে কড়া আইনি পদক্ষেপ। মমতা ও অভিষেকের ভবিষ্যৎ বক্তৃতার ওপর বিশেষ নজরদারি বা সেন্সরশিপ। বাংলায় সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে কঠোর নির্দেশিকা জারি।
উল্লেখ্য, রায়নার ওই সভা থেকে উত্তরবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে বিজেপির ‘মাথা ও হাত-পা’ ভেঙে দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন অভিষেক। পরবর্তী দফায় দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতায় তাদের ‘ঘাড় ভেঙে’ বহিরাগতদের বিদায় করার কথা বলেন তিনি। তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য ঘিরেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এখন দেখার, অভিযোগ খতিয়ে দেখে জাতীয় নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়।