নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ইস্পাত নগরীর ভোটের ময়দানে এখন পারদ চড়ছে। আর সেই উত্তাপের মধ্যেই দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত প্রকাশ করলেন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার। অরাজনৈতিক আঙিনা থেকে সরাসরি রাজনীতির পিচে পা রাখা কবির গলায় এ দিন শোনা গেল একাধারে আবেগ এবং আগামীর উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট। তাঁর স্পষ্ট দাবি, দুর্গাপুরের প্রধান ক্ষত হল কর্মসংস্থান, আর সেই ক্ষত নিরাময়ই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
লক্ষ্য যখন ‘কর্মভূমি’
এ দিন ইশতেহার প্রকাশ করে কবি দত্ত জানান, শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানকার যুবকদের বড় অংশ কর্মহীন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি কর্মভূমি’ নামে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেখানে স্থানীয় শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের নাম নথিভুক্ত থাকবে। তাঁর দাবি, নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জোয়ার আনা হবে।শিল্পক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমিপুত্রদের জন্য নির্দিষ্ট হারে ‘চাকরির সংরক্ষণ’নিশ্চিত করা হবে।
হকার পুনর্বাসন ও ভূমিস্বত্ব
শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা হকারদের উচ্ছেদ ও স্থায়িত্ব। কবি দত্তর ইশতেহারে বড় জায়গা পেয়েছে ক্ষুদ্র হকারদের স্থায়ী পুনর্বাসন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলের মানুষের জমির অধিকার নিশ্চিত করতে ‘পুনর্বাসন সংক্রান্ত জমির নবীকরণ, মিউটেশন এবং পাট্টা প্রদান’প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
অরাজনৈতিক ভাবমূর্তিই কি তুরুপের তাস?
রাজনীতির ময়দানে কবি দত্ত নবাগত হলেও, তাঁর লড়াইয়ের ধরন বেশ পরিণত। তাঁর মতে, “অরাজনৈতিক জগৎ থেকে আসার ফলে আমি সাধারণ মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। দুর্গাপুরের মানুষের দরকার আধুনিক পরিকাঠামো আর নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কবির ইশতেহারে যেমন বেকারত্বের মতো আবেগপ্রবণ বিষয় রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাস টার্মিনাস বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিক। এখন দেখার, ইশতেহারের এই ‘পাসওয়ার্ড’ দিয়ে কবি দত্ত দুর্গাপুর পশ্চিমের মানুষের মনের দরজা খুলতে পারেন কি না।