নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে সরকারি কর্মীদের মন জয়ে এবার যুযুধান তৃণমূল ও বিজেপি। একদিকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে যখন রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির, ঠিক তখনই সপ্তম বেতন কমিশন আর কর্মসংস্থান ইস্যুতে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার খণ্ডঘোষের জনসভা থেকে বিজেপিকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী।
বেতন কমিশন ও পেনশন নিয়ে তোপ
বিজেপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করবে। এই দাবিকে নস্যাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “ওরা বলছে সরকার এলে সপ্তম পে কমিশন করে দেবে। একটু খবর তো নিন! আমাদের বাজেটে ফেব্রুয়ারি মাসেই সপ্তম পে কমিশন ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।” এর সঙ্গেই রাজ্যের পেনশন নীতি নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, বাংলাই একমাত্র রাজ্য যেখানে নিয়মিত পেনশন দেওয়া হয়, যা অন্য কোনও রাজ্যে নেই।
চাকরি ও বেকারি নিয়ে চ্যালেঞ্জ
রাজ্যে কর্মসংস্থান হয়নি বলে বিজেপির তোলা দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর প্রশ্ন, “রেলে বা ডিফেন্সে ক’টা শূন্যপদ পূরণ করা হয়েছে? বছরে ২ কোটি চাকরির কথা বলে একটাও কি দেওয়া হয়েছে?” উল্টোদিকে নিজের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান দিয়ে মমতা দাবি করেন, বাংলায় গত কয়েক বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থান হয়েছে এবং বেকারত্ব প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “এটাই সত্য, আমি চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি।”
ভোটের আবহে ডিএ আন্দোলন নিয়ে যখন সরকারি কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ, তখন বেতন কমিশন আর কেন্দ্রের ‘শূন্যপদ’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই পাল্টা আক্রমণ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার, খণ্ডঘোষের এই মেঠো লড়াইয়ের প্রভাব ব্যালট বক্সে কতটা পড়ে।