নিজস্ব প্রতিনিধি:চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছ’সদস্যের এই কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার গাফিলতি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে। বুধবার, ২১ অক্টোবর রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এই কমিটি গঠনের নির্দেশ জারি করেন। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া চ্যালেঞ্জের বলেই মনে করছেন সিটের প্রধান অনিন্দিতা। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রথমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সম্ভাব্য দায় নির্ধারণ করতে হবে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী ছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি, রাজ্য পুলিশের প্রধানের মনোনীত অতিরিক্ত ডিজি পদমর্যাদার এক প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এক প্রতিনিধি এবং কলকাতায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর এক প্রতিনিধি।
হাই কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করাই সিটের অন্যতম লক্ষ্য।
চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তে মোট ১০টি বিষয় খতিয়ে দেখবে সিট। দুর্ঘটনার সময় ঠিক কী পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, তা দিয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে। অতিরিক্ত ভিড়, প্রতিকূল আবহাওয়া, গুজব, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা প্রবেশ ও বেরোনোর পথে সমস্যা তৈরি হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
মণ্ডপের পরিকাঠামো, গেট, ব্যারিকেড, সিঁড়ি এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার পথ যথাযথ ছিল কি না, তা পরীক্ষা করবেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, দমকল, হাসপাতাল, কলকাতা পুরসভা, বিদ্যুৎ সংস্থা এবং পূর্ত দফতরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনার পুনর্গঠন ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইলে তোলা ভিডিয়ো, কল রেকর্ড এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হতে পারে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা নির্ধারিত নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে কমিটি। মৃতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
উত্তর কলকাতার সরু গলিতে বড় পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো কী ভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, তা নিয়েও সুপারিশ করতে পারে সিট। দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য পৃথক পথ, সিসিটিভি নজরদারি, মাইকে ঘোষণা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
তদন্তের শেষে চোরবাগানের দুর্ঘটনার পিছনে কী কী কারণ ছিল, কোথাও প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক গাফিলতি ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা সিটের রিপোর্টে। তবে তিন মাসের মধ্যে সেই তদন্ত শেষ করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েই আপাতত সংশয় রয়েছে কমিটির প্রধানের বক্তব্যে।
What do you feel about this post?
Like
Love
Happy
Haha
Sad