নিজস্ব সংবাদদাতা: কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও এবং নিগ্রহের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও সিআইডি। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল মামলার মূল অভিযুক্ত তথা এআইএমআইএম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকে। পুলিশের দাবি, এদিন সকালের বিমানে বেঙ্গালুরু পালানোর ছক কষেছিলেন ওই আইনজীবী। তাঁর সঙ্গে সহযোগী আক্রামুল বাগানিকেও আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ১ এপ্রিল কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক অফিসে প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল ৭ জন বিচারককে। বিডিও অফিসে চলা সেই বিক্ষোভের নেপথ্যে মূল ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ওই আইনজীবী। সেই রাতেই বিচারকদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়ে পুলিশি কনভয়। এর পরেই মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে ওত পেতে ছিলেন তদন্তকারীরা। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের বিমানে ওঠার আগেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। তবে গ্রেফতারির সময়ও চেনা মেজাজে ধরা দেন ইটাহারের প্রাক্তন এই বিধানসভা প্রার্থী। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘‘ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট হয়ে যাওয়া মানুষদের অধিকার ফেরানোর লড়াই আমি থামাব না।’’
তদন্তকারী সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাগডোগরা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের মালদহে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক সময় রায়গঞ্জ জেলা আদালত ও কলকাতা হাই কোর্টে প্র্যাক্টিস করা মোফাক্কেরুল ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ইটাহার কেন্দ্র থেকে লড়াই করে জামানত খুইয়েছিলেন। তবে কালিয়াচকের ঘটনায় তাঁর এই ‘উস্কানিমূলক’ ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই চাপে ছিল জেলা প্রশাসন। এদিনের গ্রেফতারি তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, ধৃতদের জেরা করে এখন তারই হদিস পেতে চাইছেন গোয়েন্দারা।