নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট: এক দিকে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে কমিশনের ‘কড়া শাসন’, অন্য দিকে বুনিয়াদপুরের রাজপথে জনজোয়ার। বৃহস্পতিবার দুই ভিন্ন মেজাজে দক্ষিণ দিনাজপুরের ছয় বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন পেশ করল বিজেপি। কোথাও মেপে পা ফেলা, আবার কোথাও ব্যান্ড-গজাকে সঙ্গী করে শক্তি প্রদর্শন— সব মিলিয়ে মনোনয়ন পর্বের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়াল আত্রেয়ী পাড়ের জেলায়।
বালুরঘাটে ‘মেপে পা’ বিদ্যুৎদের
বৃহস্পতিবার সকালে বালুরঘাটের জেলা প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন বালুরঘাট বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন কুমারগঞ্জের শুভেন্দু সরকার, তপনের বুধরাই টুডু এবং গঙ্গারামপুরের সত্যেন্দ্রনাথ রায়। কমিশনের বেঁধে দেওয়া বিধিনিষেধ মাথায় রেখে এদিন এই চার প্রার্থী বেশ সংযতভাবেই তাঁদের নথিপত্র পেশ করেন। তবে প্রশাসনিক ভবনের বাইরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বুনিয়াদপুরে সুকান্তর নেতৃত্বে ‘মিনি ব্রিগেড’
বালুরঘাটে যখন প্রশাসনিক গাম্ভীর্য, তখন বুনিয়াদপুর দেখল অন্য ছবি। হরিরামপুরের প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার এবং কুশমন্ডির তাপস চন্দ্র রায়ের সমর্থনে এদিন রাজপথে কার্যত জনপ্লাবন নামে। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন স্থানীয় সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বুনিয়াদপুর শহর পরিক্রমা করে এই বিশাল মিছিল শেষ হয় গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসক দপ্তর।গেরুয়া আবির আর জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে এলাকা কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। “জেলায় প্রতিটি আসনেই আমরা যোগ্য লড়াই দেব। মানুষের যে উৎসাহ আজ দেখলাম, তাতে পরিবর্তনের হাওয়া পরিষ্কার,” আত্মবিশ্বাসের সুরে দাবি করেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি
মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাটে পুলিশি ব্যারিকেড ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য বিজেপির এই মিছিলকে ‘প্রচার পাওয়ার সস্তা কৌশল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম লগ্নেই দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক জমি যে তপ্ত হতে শুরু করেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই উৎসাহ ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।