নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য পুলিশে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার রাতে দিল্লির ‘নির্বাচন সদন’ থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় রাজ্যের মোট ১৭৩ জন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় পশ্চিম বর্ধমান তথা আসানসোল-দুরগাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (ADPC) একাধিক আধিকারিকের নাম থাকায় শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নয়া রক্ষক
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুরগাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন আধিকারিকদের হাতে:
পাণ্ডবেশ্বর থানা: এই থানার ওসির দায়িত্ব সামলাবেন সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্ডাল থানা: অন্ডালের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোপক পাত্রকে।
ফরিদপুর থানা: এই থানার দায়িত্ব নিচ্ছেন হিমাদ্রি শেখর বর্মন।
রানিগঞ্জ থানা: রানিগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ (IC) হিসেবে আসছেন সুবীর কর্মকার, যিনি আগে বাঁকুড়া সদরের সিআই ছিলেন।
কমিশনারেট থেকে বিদায় ও রদবদল
শুধুমাত্র আসানসোল-দুরগাপুরে আগমনই নয়, এখান থেকে বেশ কিছু আধিকারিককে ভিন জেলায় বদলিও করা হয়েছে। দুর্গাপুর সিআই-বি (CI-B) পদে থাকা পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে সুদূর দার্জিলিংয়ের ডিআইবি-তে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, জামুরিয়া থানার অর্জুন সরকারকে সুন্দরবন পুলিশ জেলার গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানায় বদলি করা হয়েছে।
অন্যান্য জেলাতেও রদবদল
শিল্পাঞ্চল ছাড়াও বীরভূম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়াতেও একগুচ্ছ বদলি হয়েছে। বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনন্যা দে-কে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের ৩১ জন ইন্সপেক্টরকেও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে শক্তি শর্মা (আন্ডার সেক্রেটারি) স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অবিলম্বে এই আধিকারিকদের নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। ভোটের আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই যে এই ‘রুটিন’ বদলি, তা মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়া শিল্পাঞ্চলের থানাগুলোতে এই রদবদল ভোটের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।