সঙ্কেত ডেস্ক: শান্ত হওয়ার বদলে উত্তরোত্তর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে মালদহ। বুধবার রাতে মোথাবাড়িতে বিচারকদের আট ঘণ্টার ‘বন্দি’ দশা কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জেলা। এবার খোদ পুলিশ সুপার (এসপি)-র কনভয় লক্ষ্য করে চলল বেপরোয়া ইটবৃষ্টি। রক্ত ঝরল পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভ এদিন কার্যত জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়।
যদুপুরে রক্তপাত, আক্রান্ত এসপির কনভয়
এদিন সকালে মালদহের যদুপুর এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছিলেন পুলিশ সুপার। অভিযোগ, ইংরেজবাজারের যদুপুর এলাকায় তাঁর কনভয় পৌঁছতেই উত্তেজিত জনতা ঘিরে ফেলে। কনভয়ের একেবারে সামনে থাকা এসকর্ট কার লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি। ইটের ঘায়ে গাড়ির কাঁচ চুরমার হয়ে যায়। মাথায় ইটের আঘাত লেগে গুরুতর জমান হন এসকর্ট কারের চালক। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদুপুর ও সুজাপুর এলাকায় জাতীয় সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। বাঁশের ব্যারিকেড করে রাস্তা আটকে দেওয়ায় দীর্ঘক্ষণ থমকে যায় যান চলাচল।
অশান্তির আঁচ জেলায় জেলায়
কেবল মালদহ নয়, ভোটার তালিকা ঘিরে অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে পাশের জেলা মুর্শিদাবাদেও। ফরাক্কার বেওয়া-১ এবং নয়নসুখ এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগে পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। বিডিও অফিস লক্ষ্য করে বিক্ষোভের খবরও উঠে আসছে। মাথাভাঙার পচাগড় এলাকায় ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে, কোচবিহার শহরে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিকের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
মোথাবাড়ি কাণ্ডে ধৃত ১৭, জালে আইএসএফ প্রার্থী
বুধবার রাতে মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় পুলিশি ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার মূল চক্রী অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মালদহের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি। যদিও শাহজাহান আলির দাবি, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলামই না, জলসায় গিয়েছিলাম। আইএসএফ প্রার্থী হওয়াতেই আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।” ধৃতদের এদিনই মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর মালদহ প্রশাসন নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ালেও ক্ষোভের আগুন নেভেনি। ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর দাবিতে জেলার ব্লকে ব্লকে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা ভোটের আগে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল কমিশনকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহের এই ‘বিদ্রোহ’ কেবল আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং জনআবেগের এক জটিল সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।