সঙ্কেত ডেস্ক:মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে যে নজিরবিহীন হিংসার ঘটনা ঘটেছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর এ বার তার তদন্তভার গ্রহণ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। আজ, শুক্রবারই কালিয়াচকে পৌঁছচ্ছে এনআইএ-র বিশেষ দল। শুরু হচ্ছে জোরকদমে তদন্ত।
সূত্রের খবর, তদন্তকারী আধিকারিকেরা প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। গত বুধবার রাতে উন্মত্ত জনতার রোষানলে পড়ে যে সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক (জুডিশিয়াল অফিসার) নিগৃহীত হন এবং রাতভর আটকে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলবে এনআইএ। সে দিনের ওই ভয়াবহ তাণ্ডবের নেপথ্যে কোনও পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বা নাশকতার ছক ছিল কি না, মূলত তার শিকড় খুঁজতেই এই পদক্ষেপ।
প্রসঙ্গত, সে দিনের সেই ‘মৃত্যুপুরী’ থেকে এক বিচারকের হাড়হিম করা আর্তনাদ, “আমার কিছু হলে সন্তানকে দেখবেন!”— ইতিমধ্যেই নাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনকে। কালিয়াচকের এই হিংসাত্মক আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মোফাক্কেরুল নামে এক আইনজীবীর নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ফেরার। তাঁর ভূমিকাও তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায়।
অন্য দিকে, মালদহ-কাণ্ড নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের উপর হামলা চালানোর জন্য উস্কানি দিচ্ছেন শুভেন্দু।
গত ৩১ মার্চ তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুক্রবার তারই পাল্টা হিসেবে কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, শুভেন্দুর এ হেন মন্তব্য রাজ্যে শুধু অশান্তিই ছড়াবে না, বরং সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তাও চরম বিঘ্নিত করতে পারে। অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়েছে।