নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়ে খোদ দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের খতিয়ান সম্বলিত চিঠি বিলি করতে গিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। গ্রামবাসীদের সাফ কথা, “আগে আন্ডারপাস করুন, তারপর হাত মেলাবো।”
ঘটনার সূত্রপাত,শনিবার দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকায় ‘জনসংযোগ’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। লক্ষ্য ছিল কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা। কিন্তু তিনি এলাকায় পৌঁছাতেই ছবিটা বদলে যায়। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এই এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে যাতায়াতের জন্য একটি আন্ডারপাস তৈরি করা। তাঁদের অভিযোগ আন্ডারপাস না থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। জাতীয় সড়ক পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা হয়নি।
বিক্ষোভ চলাকালীন এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা সরাসরি বিধায়ককে বলেন, আন্ডারপাস না হওয়া পর্যন্ত কোনো সৌজন্য বা হাত মেলানো চলবে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “মানুষের কাজ না করলে ক্ষোভ তো প্রকাশ পাবেই। এতদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।”
অন্যদিকে, বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই পাল্টা দাবি করেন, “আমি এলাকায় সাধ্যমতো উন্নয়নের কাজ করেছি। কিছু মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের বড় অংশের সমর্থন এখনও আমাদের সাথেই আছে।”

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *