অর্পিতা কর্মকার: শিয়রে নির্বাচন। আর এই হাই-ভোল্টেজ আবহে মতুয়া কার্ড ও দুর্নীতির প্রশ্নে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কার্যত ধুয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কাটোয়ার জনসভা থেকে একদিকে যেমন মতুয়া ও শরণার্থীদের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে হুঙ্কার দিলেন, অন্যদিকে বাংলার মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ও সরকারি কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজনৈতিক চাল চাললেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “তৃণমূলের ১৫ বছরের নির্মম শাসনের হিসেব হবে এবার।”
‘মতুয়ারা কারও দয়ায় নেই’
এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ পড়া নিয়ে সম্প্রতি সরব হয়েছে তৃণমূল। সেই হাতিয়ারকেই ভোঁতা করতে এদিন মোদী বলেন, “মতুয়া, নমঃশূদ্র বা শরণার্থীরা তৃণমূলের দয়ায় এদেশে নেই। ভারতের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে।” তিনি সাফ জানান, সিএএ (CAA) কোনো কাগুজে বাঘ নয়; বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ রকেটের গতিতে সম্পন্ন করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধিতাকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি শরণার্থীদের ভয় দূর করার ডাক দেন। অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতির ‘হিসেব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে এদিন সুর চড়িয়ে মোদী বলেন, “রাজ্যে যারা অনুপ্রবেশকারীদের সহায়তা করেছে, ভুয়ো নথি বানিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের হিসেব নেওয়া হবে।” প্রধানমন্ত্রীর তোপ, তৃণমূল এখন পরাজয়ের ভয়ে কাঁপছে এবং একের পর এক মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তাঁর কথায়, “বিজেপি এলে কোনো প্রকল্প বন্ধ হবে না, বরং তৃণমূলের দুর্নীতির দোকান বন্ধ হবে। নবান্ন থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে লুট বন্ধ করে প্রতিটি পয়সার হিসেব নেওয়া হবে।”
মাস্টারস্ট্রোক: ৩০০০ টাকা ও বেতন কমিশন
রাজ্যের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং বেতন বৈষম্য মেটাতে রাজ্যে “সপ্তম বেতন কমিশন” কার্যকর করার অঙ্গীকার। তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে যাদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে, তাদের জন্য বিশেষ বয়স ছাড় ও শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি। আয়ুষ্মান ভারত ও পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প কেন রাজ্যে আটকে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে মোদী জানান, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার প্রথম বৈঠকেই এগুলি চালু হবে।
‘৪ মে-র পর পরিবর্তন নিশ্চিত’
কাটোয়ায় হওয়া বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাস নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধে মোদী বলেন, এ রাজ্যে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ শেষ হবে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কার, “তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। নবান্নকে স্বচ্ছ প্রশাসনের কেন্দ্র বানানো হবে।”
কাটোয়ার এই জনসভা থেকে মোদী কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের লড়াই তৃণমূলের ‘১৫ বছরের শাসন’ বনাম বিজেপির ‘উন্নয়ন ও হিসেব নিকেশ’-এর। শাসকদলকে ‘প্যানিক’ বা আতঙ্কিত বলে কটাক্ষ করে তিনি বাংলার মানুষকে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।