নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: মধ্যবিত্তের পকেটে ফের বড়সড় কোপ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের বাজারে আবার বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। গত ১৫ মে এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা দাম বাড়ার পর, মাত্র ৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকাল থেকে কার্যকর হল জ্বালানির এই নতুন বর্ধিত মূল্য। এবার লিটার পিছু দাম বাড়ানো হয়েছে অন্তত ৯০ পয়সা।

তেল সংস্থাগুলির দাবি, সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানিতে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বসানো হলেও, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েলের দাম চড়ার কারণেই সাধারণ মানুষকে এই মাশুল গুনতে হচ্ছে।

এই দফায় মূল্যবৃদ্ধির নিরিখে তিলোত্তমাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কলকাতায় পেট্রোলের দাম এক লাফে ৯৬ পয়সা বেড়ে ১১০ টাকার দোরগোড়ায় অর্থাৎ ১০৯.৭০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬.০৭ টাকায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দেশের রাজধানীতেও জ্বালানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ৮৭ পয়সা বৃদ্ধির পর দিল্লির বাজারে পেট্রোল এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৮.৬৪ টাকায়, যা ১০০ টাকার গণ্ডি ছোঁয়ার অত্যন্ত কাছাকাছি। ডিজেলও ৯১ পয়সা বেড়ে হয়েছে Safe ৯১.৫৮ টাকা। দক্ষিণের মেট্রো শহর চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম ৮২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৪৯ টাকা এবং ডিজেল ৮৬ পয়সা বৃদ্ধির পর বিক্রি হচ্ছে ৯৬.১১ টাকায়।

পরপর দুবার এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজেট সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হতে চলেছে। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রাইভেট গাড়ি ছেড়ে সাধারণ মানুষকে গণপরিবহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। শুধু মুখের কথাই নয়, নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব কনভয়ের গাড়ির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলেন। মোদীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীও একই পথে হাঁটেন। এর পাশাপাশি, দৈনিক যাতায়াত কমিয়ে জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়িতে বসে কাজের ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *