নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল:”কাটমানির খেলা আর মাফিয়াদের মেলা— এ সব আর বেশিদিন চলবে না।” ঘড়ির কাঁটা তখন মধ্যগগন ছুঁইছুঁই। আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডের তপ্ত রোদে যখন জনসমুদ্র কার্যত ফুটছে, ঠিক তখনই শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে এ ভাবেই সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার হলদিয়ার পর আসানসোলের এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে বিঁধলেন খনি অঞ্চলের কয়লা ও বালি মাফিয়াদের। প্রধানমন্ত্রীর সাফ বার্তা, “বাংলার মানুষের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে বিজেপির জনসভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ভিড়ের সামনে দাঁড়িয়েই রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বাম আমলের তুলনা টানেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একসময় সিপিএম-ও ভয় আর আতঙ্ককে অস্ত্র করেছিল। বাংলার মানুষ তাদের বিদায় করেছে। এবার তৃণমূলও সেই একই ভুল করছে।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এল ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে মানুষ যে ‘পরিবর্তন’ চেয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তার অমর্যাদা করেছে।
আক্রমণের কেন্দ্রে কয়লা-বালি ও ‘কাটমানি’
শিল্পাঞ্চল আসানসোলে দাঁড়িয়ে কয়লা ও বালি চুরির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরাসরি তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সিন্ডিকেট রাজের দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। মোদী বলেন, “এককালে গোটা দেশ থেকে মানুষ এখানে কাজ করতে আসতেন, আর আজ এখানকার যুবকদের রুজিরুটির জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে।” পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁর কটাক্ষ, “আগে ভারতের ১০০ টাকা আয়ের মধ্যে ১২ টাকা আসত বাংলা থেকে, আজ তা ৫ টাকায় ঠেকেছে।” ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে এ দিন ফের আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
সুরক্ষা ও দুর্নীতিতে বিদ্ধ তৃণমূল
আরজি কর থেকে সন্দেশখালি— সাম্প্রতিক ইস্যুগুলি টেনে এনে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। নাম না করে শাসকদলকে বিঁধে তাঁর হুঙ্কার, “অপরাধীরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর সরকার তাদের মদত দিচ্ছে।” সেই সঙ্গে মালদহের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সিআরপিএফ-কে ‘গালিগালাজ’ করার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
উন্নয়নের আশ্বাস
এ দিনের সভা থেকে আসানসোল ও দুর্গাপুরকে ‘মেগা সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দূষণ এবং পরিকাঠামোর বেহাল দশার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে তিনি জানান, বন্দে ভারত ও অমৃত ভারত ট্রেনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে প্রকৃত উন্নয়ন কেবল ‘তৃণমূলমুক্ত’ বাংলাতেই সম্ভব। জনতার উদ্দেশে তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো স্লোগান, “৪ মে-র পর গুন্ডামির বেছে বেছে হিসাব নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ শাসকদলের অস্বস্তি যেমন বাড়াল, তেমনই শিল্পাঞ্চলের ভোটব্যাঙ্কেও বড়সড় কম্পন তৈরি করল।