নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: লোকসভা ভোটের আবহে এবার খোদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠাল কলকাতা পুরসভা। তাঁর মালিকানাধীন বাড়ি ও বহুতলের নির্মাণ আদৌ বৈধ কি না, তা জানতেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ অভিষেককে পুরসভায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০১ নম্বর ধারায় এই নোটিসটি পাঠানো হয়েছে। তৃণমূলের দখলে থাকা কলকাতা পুরসভা থেকে খোদ অভিষেকের ঠিকানায় এই নোটিস পৌঁছনোয় রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে খবর, মূলত হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি এবং কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবন নিয়ে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের নোটিসে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না। যদি মূল প্ল্যানের বাইরে অতিরিক্ত কোনও নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তবে তা নিয়ম মেনে বৈধ করা হয়েছিল কি না, তার প্রমাণপত্র দাবি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি ফলতার একটি নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিষেকের সম্পত্তির পরিমাণ এবং তাঁর বাড়ি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তার পরই পুরসভার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ক্ষমতায় এসে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি সরকার। তিলজলা কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার নামানো হচ্ছে। আর এই সবেরই মধ্যে খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিল্ডিং বিভাগ থেকে অভিষেকের কাছে নোটিস যাওয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কলকাতা পুরসভা তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, পুর কমিশনার রাজ্য সরকারের নির্দেশে কাজ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মেয়রের পারিষদরা কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও তিনি সময় দেননি, এমনকী পুর অধিবেশনেও অনুপস্থিত ছিলেন। তিলজলায় যে বুলডোজার পাঠানো হয়েছিল, সেটিও ছিল পুরসভারই।

এই টানাপোড়েনের মাঝেই গত ১৮ মে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে কলকাতা পুরসভার মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে পানীয় জল, নিকাশি ও রাস্তা সংস্কারের মতো নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিলেও, নেপথ্যে পুরসভার অন্দরে দলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুরসভার প্রশাসন এখনও দলের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত কি না, অভিষেককে পাঠানো এই নোটিসের পর কালীঘাটের অন্দরে সেই সংশয় আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *