নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ফের শিরোনামে শিল্পশহর দুর্গাপুর। তবে কোনও শিল্পোন্নয়ন বা উৎসবের কারণে নয়, বরং ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের চরম হয়রানি ও ক্ষোভের ছবি ধরা পড়ল ভগৎ সিং স্টেডিয়াম চত্বরে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা সংশোধনের আবেদন জানাতে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। লাইনের দৈর্ঘ্য এতটাই ছিল যে, পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
ক্ষোভের কেন্দ্রে ‘ভুল’ ও ‘বাতিল’
এদিন সকাল থেকেই দুর্গাপুরের ভগৎ সিং স্টেডিয়ামের অস্থায়ী ট্রাইব্যুনাল চত্বরে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আবেদনকারীদের অভিযোগ, কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার কারও ক্ষেত্রে নাম বা ঠিকানায় ভুল ধরা পড়েছে। সংশোধনের জন্য বারবার আবেদন করেও সুরাহা না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।
আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের আগে কাজ হচ্ছে না। ভিড় সামলানোর তুলনায় কাউন্টার সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও ত্রুটির কারণ দেখিয়ে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।লাইনের এক বৃদ্ধ ভোটার ক্ষোভের সুরে বলেন, “গত তিন দিন ধরে আসছি। বলা হচ্ছে সার্ভার নেই, নয়তো লাইন শেষ হবে না। আমাদের নাগরিকত্ব কি এই লাইনেই আটকে থাকবে?”
কড়া নিরাপত্তায় মুড়েছে স্টেডিয়াম
ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এদিন বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও টহল দিতে দেখা যায়। বুথ ভিত্তিক ফর্ম জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় কয়েকবার মৃদু উত্তেজনাও ছড়ায়। তবে মোতায়েন বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বড় কোনও রূপ নেয়নি।
প্রশাসনের বক্তব্য
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভিড় বেশি হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে ঠিকই, তবে প্রত্যেকের আবেদন যাতে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হয়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কাউন্টার বাড়ানোর বিষয়টিতেও চিন্তাভাবনা চলছে।
তবুও দিনের শেষে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ভোটার কার্ডের মতো একটি অপরিহার্য নথির সংশোধনে কেন আজও সাধারণ মানুষকে রোদ-জল মাথায় করে রাজপথে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? প্রশাসনিক তৎপরতার অভাব নাকি পরিকাঠামোগত ত্রুটি, দুর্ভোগের দায় কার— উত্তর খুঁজছেন শিল্পশহরের সাধারণ নাগরিকরা।